আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সময়মতো এই অর্থ ছাড় না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় ১২ টাকা ১৫ পয়সা। অথচ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে মাত্র ৭ টাকা ৪ পয়সায়। ফলে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫ টাকা ২৭ পয়সা লোকসান হচ্ছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির বড় অংশই যাচ্ছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়ায়। গত ১৫ বছরে শুধু এই খাতেই প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ অনেক রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্র বছরের বেশিরভাগ সময় অলস পড়ে থাকে।
এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধি (৫.০২ টাকা থেকে ১৫.৫০ টাকা) বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ভর্তুকির চাপ আরও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এই ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে—
নতুন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট এইচএফও ভিত্তিক কেন্দ্র, পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র এবং মাতারবাড়ী আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভর্তুকির অর্থ চেয়ে চিঠি পাঠানো হলেও এখনো অর্থ বিভাগ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে আসন্ন পিক মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে International Monetary Fund (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে। সংস্থাটির ঋণচুক্তির শর্ত অনুযায়ী ধাপে ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এই বিশাল ভর্তুকি বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে মূল্য বৃদ্ধি না করলে সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়েই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে।