কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা কয়েকজন অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘর ও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার রমনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রমনা সরকার বাড়ির রিপন মিয়া ও ধলু মিয়া, রমনা ব্যাপারীপাড়ার মোহাম্মদ আলী এবং বজরা দিয়ার খাতা এলাকার মিঠু মিয়া, রঞ্জু মিয়া, মুকুল মিয়া ও হালিম বাদশার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামবাসীর দাবি, মাদকের কারণে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ ও অভিযোগ জানানো হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
এরই জেরে বুধবার রাতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে কয়েকটি বাড়িঘর ও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, মাদক ব্যবসার কারণে বহু পরিবার সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
তবে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
অভিযুক্তদের একজন হালিম বাদশা বলেন, “প্রায় ১০ মাস ধরে আমি মাদক থেকে দূরে আছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে রমনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অবস্থান ইতিবাচক। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে।”