আরএনবি ডেস্কঃ অকৃত্রিম ভালোবাসায় জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–কে শেষ বিদায় জানাতে ঢল নামে লাখো মানুষের। অনন্ত যাত্রায় পাড়ি দেওয়ার সময় কোটি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সঙ্গে নিয়ে বিদায় নেন এই আপসহীন নেত্রী। জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের আবেগে ভারী হয়ে ওঠে রাজধানীর আকাশ-বাতাস। কেউ হাউমাউ করে কেঁদেছেন, কেউ নীরবে চোখের পানি মুছেছেন। শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে জাতি বিদায় জানিয়েছে দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে দেশের রাজনীতিকে নেতৃত্ব দেওয়া এই দেশপ্রেমিক নেত্রীকে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল তিনটার পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ–এর পশ্চিম প্রান্তে অনুষ্ঠিত হয় খালেদা জিয়ার জানাজা। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ–এর খতিব মাওলানা আবদুল মালেক। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের প্রাঙ্গণ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সড়কজুড়ে লাখো মানুষ জানাজায় অংশ নেন। নির্ধারিত স্থানে জায়গা না পেয়ে হাজারো মানুষ আশপাশের সড়কে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এর আগে দুপুর ১২টার পর খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে করে জানাজার স্থলে পৌঁছায়। পরে লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে তার কফিন জানাজাস্থলে নেওয়া হয়। জানাজা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দীর্ঘ ৪১ বছর বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খালেদা জিয়া বহুবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে আপসহীন অবস্থানে থেকেছেন তিনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দেশ ছাড়েননি; শেষ জীবন পর্যন্ত সহ্য করেছেন দমন-পীড়ন ও নির্যাতন। শেষ পর্যন্ত দেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাই হয়ে ওঠে তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সেই ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে রইলেন বাংলাদেশের এই প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক।