সমাজে নারীর উপস্থিতি, পোশাক বা চলাফেরা ব্যক্তিগতভাবে নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজ।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কোনো নারীর পোশাক বা চলাফেরা কারও পছন্দ না হলে তার প্রতি আক্রমণাত্মক হওয়ার পরিবর্তে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
মারদিয়া মমতাজ বলেন, “আপনার পকেটে ১০ টাকা আর দোকানের শোকেসে ২৫ টাকার খাবার থাকলে আপনি সেটাকে আক্রমণ করেন না। তাহলে কোনো মেয়ের পোশাক আপনার পছন্দ না হলে কেন মনে হবে সে আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে?”
তিনি বলেন, “এটাই বাংলাদেশ। এখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষ থাকবে, বিভিন্ন মত ও জীবনধারা থাকবে। এটা মেনে নিতে কষ্ট হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা এটাই।”
সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “আপনি যদি বাংলাদেশকে পুরোপুরি প্রগতিশীল রাষ্ট্র বানাতে চান, আমি থাকব। আবার কেউ যদি শতভাগ ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রও কল্পনা করেন, তবুও সমাজে ভিন্নধারার মানুষ থাকবে। এটাই বাস্তবতা।”
নারীর স্বাধীন অস্তিত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আপনার স্ত্রী কেমন হবে, সেটা আপনি বেছে নিতে পারেন। কিন্তু সমাজে একটি মেয়ে কীভাবে থাকবে, কীভাবে চলবে, সেটা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আল্লাহ আপনাকে দেননি। যেটা আপনার ভালো লাগবে না, চোখ নামিয়ে চলে যান।”
তিনি আরও বলেন, “রাসুল (সা.) বলেছেন, সেই ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়, যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ নয়। ইসলামের নামে কিংবা প্রগতির নামে কারও প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই নারীর স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের বিষয়ে তার বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ ভিন্নমতও প্রকাশ করেছেন।