আেএনবি ডেস্কঃ অতীতের মতো কোনো আপসকামী বা বোঝাপড়ার নির্বাচন দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, যেখানে জনগণের প্রকৃত মতামল প্রতিফলিত হবে। গতকাল রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির। সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের অস্থির সময়ে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশ গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেয়েছে। তাঁর ভাষায়, আগস্টের ৩, ৪ ও ৫ তারিখে সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান না থাকলে আজকের বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ হয়তো থাকত না। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক পরিবর্তন বা গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো দল বা ব্যক্তির নয়। এ আন্দোলনের পেছনে ছিল জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা। ‘একজনকে মাস্টারমাইন্ড বানালে বাকিদের অবমূল্যায়ন করা হয়—এটা আমরা মানি না। বাংলাদেশের বিপ্লবের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড এ দেশের জনগণ,’ বলেন তিনি। ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, উপমহাদেশের স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। সেই অবিচারের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ ছিল সত্তরের নির্বাচন, যার ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। জনগণের রায়ে অন্য দল এলে সহযোগিতার অঙ্গীকার আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের জনগণের ওপর তাঁর দলের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুশাসনের প্রশ্নে জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে জনগণ যদি অন্য কোনো দলকে ক্ষমতায় আনতে চায়, সে সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে যারা থাকবে, জামায়াতে ইসলামী তাদের সঙ্গেই থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাজধানীর বসুন্ধরায় সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির। চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এদিকে একই দিনে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল।