রংপুরে বিষাক্ত রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে মৃত্যুর ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হোমিওপ্যাথিক ওষুধের আড়ালে সংগ্রহ করা এই অ্যালকোহল সেবনে গত ৭২ ঘণ্টায় জেলায় অন্তত ছয়জনের প্রাণ গেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে আরও দুইজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সর্বশেষ নিহত দুজন হলেন—বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম। মৃতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে কয়েকজন একত্রিত হয়ে রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ওই রাতেই ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান। তারা হলেন—আলমগীর হোসেন, সোহেল মিয়া ও জেন্নাদ আলি।
এদিকে একই সময়ে নগরীর হাজিরহাট থানাধীন বালারবাজার এলাকায় স্পিরিট সেবনের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে বিষাক্ত এই মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার হেফাজত থেকে ১০ বোতল রেকটিফায়েড স্পিরিট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন জানান, কিছু অসাধু চক্র স্থানীয় কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে রেকটিফায়েড স্পিরিট সংগ্রহ করে তা মাদক হিসেবে বাজারজাত করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে নগরীর বিভিন্ন হোমিও চেম্বারে নজরদারি ও অভিযান শুরু করেছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের আবহ বিরাজ করছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে—রেকটিফায়েড স্পিরিট কোনোভাবেই পানযোগ্য নয়। এ ধরনের বিষাক্ত দ্রব্য সেবন থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি কেউ অসুস্থ হলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রেকটিফায়েড স্পিরিট কোনো মাদক নয়—এটি নিশ্চিত মৃত্যুর পথ। সচেতন না হলে বিপদ অনিবার্য।