ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বড় ধাক্কা খেল ইসলামি দলগুলোর বৃহত্তর ঐক্য। দীর্ঘ আলোচনার পর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বরং ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে তারা। এই বিভাজনে ইসলামপন্থি ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অনৈক্যের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারে বিএনপি। বিস্তারিত রিপোর্টে।
দীর্ঘদিন ধরে ‘এক বাক্স নীতি’ বা ইসলামপন্থিদের বৃহত্তর ঐক্যের যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে এসে তাতে বড় ফাটল ধরল। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে যুক্ত হলো না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে ২৬৮টি আসনে এককভাবে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের দল।
ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ায় এখন এই ঐক্য দাঁড়িয়েছে ১০ দলে। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াত, খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এনসিপি ও এবি পার্টিসহ সমমনা দলগুলো।
জোট না হওয়ার পেছনে মূলত আসন ভাগাভাগি ও আদর্শিক সংঘাতকে দায়ী করা হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলনের দাবি ছিল অন্তত ৫০টি আসন, কিন্তু জামায়াত ৪৫টির বেশি ছাড়তে রাজি হয়নি। এছাড়া শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্যে আদর্শিক দ্বন্দ্বে জড়ায় দুই দল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিভাজনের ফলে ইসলামি ভোট ভাগ হয়ে যাবে, যার সরাসরি ফায়দা নিতে পারে বিএনপি।“দেশে ১৫-২০ শতাংশ ভোট ডানপন্থি বা ধর্মীয় দলগুলোর। তারা আলাদা লড়লে ভোট ভাগ হয়ে যাবে। এতে তাদের জেতার সম্ভাবনা কমবে এবং বিএনপি সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে…”
তবে জোট নেতারা বলছেন, ইসলামী আন্দোলন না থাকায় ভোটের মাঠে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। খেলাফত মজলিস আমির মাওলানা মামুনুল হক জানান, ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসন সমঝোতার ভিত্তিতেই বণ্টন হবে।“সবাই মিলে একসঙ্গে নির্বাচন করতে না পারাটা ব্যর্থতা। তবে ঐক্যের অঙ্গীকার থেকে দলগুলো সরে যায়নি। খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না
জামায়াত এখনও বলছে, ইসলামী আন্দোলনের জন্য তাদের দরজা খোলা। তবে শেষ পর্যন্ত এই দুই মেরুর রাজনীতি ভোটের বাক্সে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।