১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিশ্বের প্রথম ‘জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এবার ভোটারদের প্রায় ২৫ শতাংশই তরুণ প্রজন্ম, যাদের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার টানা প্রায় ১৫ বছর দেশ শাসন করেছে। এর মধ্যে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত বা বয়কট করা। ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী–জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ও তার দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
রয়টার্স বলছে, এই নির্বাচনে বিএনপি ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছে, তবে তাদের জয়ের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভ্যুত্থান-পরবর্তী জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন— এককভাবে সরকার গঠনে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী। জনগণ ভোট দিলে আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবো।
১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বাংলাদেশে রাজনৈতিক–অর্থনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি— এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে চীন ও ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কেও এ নির্বাচনের ফল গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্স আরও বলছে— ১৯৭১ সালের পর অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনের তুলনায় জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে ভালো ফল করতে পারে। বিভিন্ন জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণ ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে।