ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগজুড়ে বিশেষ অভিযানে মোট ৫৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী উদ্ধার করেছে ৫৬টি এবং রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ উদ্ধার করেছে ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিভাগের সামগ্রিক তথ্য তুলে ধরে কমিশনার জানান— মোট আসন: ৩৯, জেলা: ৮,উপজেলা: ৬৭, পৌরসভা: ৬২, ইউনিয়ন: ৫৬৫, মোট ভোটার: ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন, ভোটকেন্দ্র: ৫,৫০৪টি এর মধ্যে ১,৭৬৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য—একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা।”
১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে— সেনাবাহিনী উদ্ধার করেছে: ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ উদ্ধার করেছে: ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র: ৪৩৩টি, বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে: ৪,৫৯৪টি এছাড়া পুরো বিভাগে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল, চেকপোস্ট আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার জানান, নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগে মোতায়েন থাকছে— সেনাবাহিনী: ১০,০০০, বিজিবি: ৪,১২৩, রেঞ্জ পুলিশ: ১৩,৭৯৬, আরএমপি: ২,৪০৫, র্যাব: ১,০০৬, আনসার: ৭২,৭৩৬। মোট ১,০৪,৬৬৬ জন নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। গড়ে প্রতি আসনে থাকছে ২,৬৬৮ জন নিরাপত্তাকর্মী।
ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বিভাগজুড়ে স্থাপন করা হচ্ছে— ৫,২৬৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ২,৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রভিত্তিক তিনস্তর নিরাপত্তা থাকছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট: ২১৮ জন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট: ৩৯ জন।
১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জয়েন্ট অপারেশন সেল কার্যক্রম চালাবে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণভোট উপহার দিতে চাই।”