শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তিস্তা ব্যারেজে তিন মন্ত্রীর পরিদর্শন, মহাপরিকল্পনা নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা সোনার দাম ভরিতে আরও কমলো ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক স্থগিত অবশেষে সেই ‘মাস্টারমাইন্ড’ ইস্যুটি খোলাসা করলেন সাবেক উপদেষ্টা ভয়াবহ ট্যাকলে গুরুতর চোট, স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন কানাডার ইসমাইল কোনে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদের অভিযোগ, তারাগঞ্জ মাদ্রাসায় নতুন বিতর্ক রৌমারী সীমান্তে ৯৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার একই পরিবারের ৪ সদস্য, শূন্যরেখায় এখনও ৫ জন পরিমনি কাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন দিনাজপুরে অটোরাইস মিল মালিকের পায়ের রগ কাটা মরদেহ, হত্যার অভিযোগ গোবিন্দগঞ্জে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত, পারিবারিক কলহে মর্মান্তিক ঘটনা

হরমুজে আসলেই জাহাজ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৬০ জন সংবাদটি দেখেছেন

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে ‘জ্বালিয়ে’ দেওয়া হবে।

সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডারের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারির এই বক্তব্য প্রকাশ করে। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরান এই প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ দাবি করলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী এখনো নৌ-চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে সোমবারই আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন সংশ্লিষ্ট তেলের ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ‘আথে নোভা’ নামের ওই ট্যাঙ্কারটিতে দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর সেটিতে এখনো আগুন জ্বলছে।

হরমুজ প্রণালীতে চলমান এই অচলাবস্থা মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়ে ইরানি জনগণকে সহায়তার প্রস্তাব দেন। এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জেরে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়ে আসছিল।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান কেবল হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং তারা ইসরায়েল এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ইরানি মিসাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল যে, তাদের ওপর কোনো আক্রমণ হলে তারা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ ধমনীটি বন্ধ করে দেবে। বর্তমান পরিস্থিতির মাধ্যমে ইরান কার্যত তাদের সেই পুরোনো হুমকি বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরানের এই কড়া অবস্থানের ফলে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর এবার হরমুজ প্রণালীতে এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com