দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পরও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে রাতভর পাহারায় অংশ নিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
রোববার (১৪ জুন) সকালে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের রত্নাই সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি ও টহল কার্যক্রম চালাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বেচ্ছায় অবস্থান নিয়ে নজরদারিতে সহযোগিতা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সীমান্তের ওপার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপুকুর এলাকার নাটুয়াটলী ক্যাম্পসংলগ্ন ২২ ও ২৩ নম্বর গেটের কাছে প্রায় শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। এরপরই সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয়রাও সতর্ক অবস্থান নেন।
গ্রামবাসীরা জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের খবর প্রকাশের পর সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। নিজেদের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা স্বেচ্ছায় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পাহারায় অংশ নিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সীমান্ত দিয়ে কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো না হয়, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের নজরদারিতে অংশ নেবেন বলেও জানান তারা।
তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন হলে তা দুই দেশের প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করা উচিত।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখলাকুর রহমান বলেন, সীমান্তে বিজিবির নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখেছে।”
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বিত নজরদারি কার্যক্রম এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।