কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অভিযোগে দুই শিশুসহ ৯ জন ব্যক্তি দুই দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) অবস্থান করছেন। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন তারা বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) ভোরে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কয়েকজনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের তৎপরতার কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি এবং শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, আটকে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। বৈরী আবহাওয়া, তীব্র রোদ ও বৃষ্টির কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মানবিক কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের খাবার ও পানীয় সরবরাহ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া বলেন, শূন্যরেখায় অবস্থানের কারণে তারা স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবাও পাচ্ছেন না। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে পরিস্থিতি সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের গয়টাপাড়া ক্যাম্পের সুবেদার শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, সীমান্তে আটকেপড়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা ও আইনগত অবস্থান যাচাই এবং তাদের ভবিষ্যৎ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।