রংপুরের তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট কামিল মাদ্রাসায় জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে আইনগত ব্যবস্থা ছাড়াই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির যোগসাজশে বিষয়টি বিধিবহির্ভূতভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, সহকারী অধ্যাপক মাহবুব রশিদ প্রায় ১৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পান এবং দীর্ঘদিন এমপিও সুবিধাও গ্রহণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এছাড়া তিনি যে বিষয়ে আবেদন করেছিলেন, সেটিও নিয়োগের যোগ্যতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ছিল বলে বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যানুসারে, ২০২০ সালে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রস্তুতকৃত এক তদন্ত প্রতিবেদনে তার সনদ জাল বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদের সত্যতা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ওই চিঠিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়ের বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে অভিযুক্ত শিক্ষককে পদত্যাগের মাধ্যমে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এমপিও শাখা থেকে ২৩ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা এক নির্দেশনায় সারাদেশের ১১৪ জন জাল সনদধারী শিক্ষকের এমপিও সুবিধা বন্ধ, সরকারি অর্থ আদায়ের উদ্যোগ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। সেই তালিকায় তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাহবুব রশিদের নামও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং অভিযুক্ত শিক্ষককে শাস্তির আওতার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
শিক্ষানুরাগী আব্দুল হাকিম বলেন, “অভিযোগগুলো সত্য হলে শুধু অভিযুক্ত শিক্ষক নয়, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা সহযোগিতার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যক্তিদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।”
স্থানীয় অভিভাবক সাজু বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এএসএম আব্দুস সালাম এবং গভর্নিং বডির সভাপতি শরিফুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ হয়নি। ফলে অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।