মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বাংলাদেশের তিন প্রজাতির দেশি মাছ। গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, নাপিত খয়রা, জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্স নামের মাছগুলো বিদেশি গাপ্পি মাছের তুলনায় বেশি মশার লার্ভা খেতে সক্ষম।
বিশেষ করে নাপিত খয়রা মাছ পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো ফল দেখিয়েছে। স্বাভাবিক ও দূষিত উভয় ধরনের পানিতেই মাছটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মশার লার্ভা খেয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার এবং তাঁর সহগবেষকদের পরিচালিত পরীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকেরা সাভারের বিভিন্ন নর্দমা থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করেন। এরপর গবেষণাগার ও নিয়ন্ত্রিত আধা-মাঠপর্যায়ের পরিবেশে মাছগুলোর লার্ভা খাওয়ার সক্ষমতা পরীক্ষা করেন।
প্রতিটি মাছকে আলাদা পাত্রে রেখে ১০০টি করে কিউলেক্স মশার লার্ভা দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পর হিসাব করা হয় কতটি লার্ভা খেয়েছে মাছগুলো।
ফলাফলে দেখা যায়, স্বাভাবিক পানিতে নাপিত খয়রা গড়ে ৯৪ দশমিক ৫টি এবং দূষিত পানিতে ৯৩ দশমিক ৭৫টি লার্ভা খেয়েছে।
জেব্রাফিশ স্বাভাবিক পানিতে ৮৭টি ও দূষিত পানিতে ৮৬ দশমিক ২৫টি লার্ভা খেয়েছে।
ব্লু পাঞ্চাক্স খেয়েছে যথাক্রমে ৮০ দশমিক ৭৫ ও ৭৮ দশমিক ৭৫টি।
অন্যদিকে, বিদেশি গাপ্পি মাছ স্বাভাবিক পানিতে গড়ে ৫৬ দশমিক ৫টি এবং দূষিত পানিতে ৬১ দশমিক ৫টি লার্ভা খেয়েছে।
গবেষক অধ্যাপক কবিরুল বাশারের ভাষ্য অনুযায়ী, এডিস মশার লার্ভা দিয়েও দেশি মাছগুলোর খাদ্য গ্রহণের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
সেখানেও তিন প্রজাতির মাছ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লার্ভা খেয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আগের একটি গবেষণায় দেখা যায়, এডিসের লার্ভা খাওয়ার ক্ষেত্রে জেব্রাফিশ গাপ্পির চেয়ে ভালো ফল দেখিয়েছে।
ওই পরীক্ষায় ২৪ ঘণ্টায় জেব্রাফিশ গড়ে ৬৩ দশমিক ৬৭টি এবং গাপ্পি ৩৩ দশমিক ৩৩টি এডিসের লার্ভা খেয়েছিল।
গবেষণায় মাছগুলোর দূষিত পানিতে বেঁচে থাকার সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়।
১০ দিনের পরীক্ষায় চার প্রজাতির সব মাছই বেঁচে ছিল। তবে দূষিত পানিতে মাছগুলোর কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়ার বিষয়টি গবেষকদের নজরে এসেছে।
তাই স্বল্পমেয়াদি পরীক্ষার ফল দিয়ে বাস্তব নর্দমা বা জলাশয়ে দীর্ঘদিন একইভাবে টিকে থাকার নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।
গবেষকেরা বলছেন, দেশি মাছ ব্যবহার মশা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব একটি সহায়ক পদ্ধতি হতে পারে।
তবে গবেষণাগারে ভালো ফল পাওয়া গেলেও বাস্তব পরিবেশে একই কার্যকারিতা পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
বিশেষ করে পানির দূষণ, অক্সিজেনের পরিমাণ, পানির প্রবাহ, মাছের প্রজনন এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব যাচাই করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পাশাপাশি এই পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে।