সিঙ্গাপুর থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার মৃত্যুর খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, ওসমান হাদির মৃত্যুর যে তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, হাদির অবস্থা গুরুতর হলেও তিনি জীবিত রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ওসমান হাদি ভাইয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন। তবে তার মৃত্যুর যে সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে, সেটি সত্য নয়।” একই সঙ্গে হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “আল্লাহ যেন তাকে হায়াতে তাইয়্যেবাহ দান করেন।”
এর আগে বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য শরীফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
পোস্টে আরও জানানো হয়, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান বুধবার হাসপাতালে গিয়ে ওসমান হাদিকে দেখতে যান। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করে হাদির চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধও জানান।
এদিকে চিকিৎসক ডা. আহাদ জানান, বর্তমানে ওসমান হাদির হার্ট, ফুসফুস ও কিডনি ভেন্টিলেশন সাপোর্টের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইউরিন আউটপুটও সাপোর্টের মাধ্যমেই বজায় রয়েছে। সর্বশেষ সিটিস্ক্যানে তার মস্তিষ্কে ইস্কেমিয়ার মাত্রা কিছুটা বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
ডা. আহাদ আরও বলেন, ব্রেনে থাকা গুলির একটি অংশ অপসারণে নতুন করে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকেরা আলোচনা করছেন। প্রয়োজনে তাকে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি, দীর্ঘ ভ্রমণ সহ্য করার সক্ষমতা এবং পরিবারের মতামত—সবকিছু মিলিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।