শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পদ্মা সেতুর মতোই এগোচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি তিস্তা ব্যারাজ ও নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শনে আজ লালমনিরহাটে ৩ মন্ত্রী আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন ২০০-এর বেশি নেতাকর্মী ক্লাসে দুই শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়ে মাসে ব্যয় ৩ লাখ টাকা রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে ‘একজন মেয়ে কীভাবে চলবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি’ : মারদিয়া মমতাজ রংপুরসহ ৫ বিভাগে চালু হচ্ছে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল পদ্মা সেতুর পথেই এগোচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দ্রুত একনেকে যাচ্ছে প্রকল্প : পানিসম্পদ মন্ত্রী তিস্তা ব্যারেজে তিন মন্ত্রীর পরিদর্শন, মহাপরিকল্পনা নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা সোনার দাম ভরিতে আরও কমলো ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা

শহীদ ওসমান হাদির ঐতিহাসিক জানাজা জনসমুদ্র মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫ জন সংবাদটি দেখেছেন

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ জানাজা। শনিবার অনুষ্ঠিত এই জানাজা ঘিরে পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখা গেলেও, শহীদ ওসমান হাদির জানাজাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি জানাজাকে ঐতিহাসিক রূপ দেয়।

শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ দলে দলে জানাজাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা ১২টার আগেই পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মানুষের ঢল ছড়িয়ে পড়ে ফার্মগেটের খামারবাড়ি, আসাদগেট এবং উত্তর দিকে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র পর্যন্ত।

জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সব প্রবেশপথে নেওয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি র‍্যাব, আনসার ও বিশেষ টহলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।

হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে বিশাল শোক মিছিলের মাধ্যমে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ জানাজার স্থলে আনা হয়।

জানাজা শেষে শহীদ হাদির পরিবারের বিশেষ ইচ্ছা এবং সহযোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোড এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় ওসমান হাদিকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় তিনি একটি রিকশায় ছিলেন। মোটরসাইকেলে এসে নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা তার মাথায় গুলি চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরদিন শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ওসমান বিন হাদি তরুণ প্রজন্মের কাছে সাহস, প্রতিবাদ ও দেশপ্রেমের এক প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের এই উপস্থিতি তারই স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com