আরএনবি অনলাইন ডেস্কঃ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে এসে উপদেষ্টা পরিষদে রদবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দু–এক দিনের মধ্যেই একজন নতুন উপদেষ্টার শপথ হতে পারে। একই সঙ্গে দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন উপদেষ্টার দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের একজনকেও নতুন করে উপদেষ্টা করা হতে পারে। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী–কে পদ থেকে সরানো হবে কি না—এ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। হাদি হত্যার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে আছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তাঁর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে জোরালোভাবে। গত দুই দিন ধরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ছড়ালেও রোববার সন্ধ্যায় তিনি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। গতকালও তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের ১৮তম সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “পদত্যাগ করলে এখানে বসতাম না।” ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা হয়। তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই রাতেই রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা—প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উচীদীর কার্যালয়ে ঘটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট। বিভিন্ন জেলায়ও হামলার ঘটনা ঘটে। ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জানাজায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন—হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ইনকিলাব মঞ্চ ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, এবং বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেছে।৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ছিলেন। মাত্র ৯ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে ১৭ আগস্ট দায়িত্ব দেওয়া হয় জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে। এবার তাঁকেও সরানোর জোরালো আলোচনা চলছে।সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন উপদেষ্টার নাম চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এক–দুই দিনের মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে।উপদেষ্টা পরিষদে আসন্ন এই রদবদলই নির্ধারণ করবে—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কতটা দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারছে।