শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘একজন মেয়ে কীভাবে চলবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি’ : মারদিয়া মমতাজ রংপুরসহ ৫ বিভাগে চালু হচ্ছে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল পদ্মা সেতুর পথেই এগোচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দ্রুত একনেকে যাচ্ছে প্রকল্প : পানিসম্পদ মন্ত্রী তিস্তা ব্যারেজে তিন মন্ত্রীর পরিদর্শন, মহাপরিকল্পনা নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা সোনার দাম ভরিতে আরও কমলো ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক স্থগিত অবশেষে সেই ‘মাস্টারমাইন্ড’ ইস্যুটি খোলাসা করলেন সাবেক উপদেষ্টা ভয়াবহ ট্যাকলে গুরুতর চোট, স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন কানাডার ইসমাইল কোনে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদের অভিযোগ, তারাগঞ্জ মাদ্রাসায় নতুন বিতর্ক রৌমারী সীমান্তে ৯৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার একই পরিবারের ৪ সদস্য, শূন্যরেখায় এখনও ৫ জন

গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রনায়ক: বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৮ জন সংবাদটি দেখেছেন

আর এনবি অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া একটি ব্যতিক্রমী নাম। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার এই যাত্রা ছিল দীর্ঘ, কঠিন ও নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সূত্র অনুযায়ী, খালেদা জিয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুঁড়ির নয়াবস্তিতে। জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ‘শান্তি’। পারিবারিকভাবে তিনি ‘পুতুল’ নামেও পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। শিক্ষাজীবনে খালেদা জিয়া দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন এবং পরে দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন। কলেজে পড়ার সময় তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান-এর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে খালেদা জিয়াকে দুই পুত্রসহ বন্দিত্ব ও গৃহবন্দিত্বের শিকার হতে হয়। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। এই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়া প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত একাধিকবার কারাবরণ করেন তিনি।১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে আরও দুই দফা সরকার পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সংস্কারে ভূমিকা রাখেন।রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট তাঁকে ‘ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি’ সম্মাননায় ভূষিত করে। এছাড়া Forbes ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।২০০৭ সালের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে খালেদা জিয়াকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবন্দী করা হয়। মানবাধিকার সংস্থা Amnesty International তাঁর বিচারের ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। দীর্ঘ কারাবাস ও পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।২০২০ সালে করোনাকালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও দীর্ঘদিন তিনি কার্যত গৃহবন্দী ছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি পূর্ণ মুক্তি পান।বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ব্যক্তিগত সংগ্রাম, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং দীর্ঘ পথচলার মধ্য দিয়ে তিনি সমর্থকদের কাছে ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com