বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় রচনা করা বেগম খালেদা জিয়া—দিনাজপুর গার্লস স্কুলের ছাত্রী থেকে উঠে এসেছেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
Begum Khaleda Zia জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে। জন্মের পর প্রথম দুই বছর সেখানেই কাটে তার। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের পর তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার পরিবারসহ দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
খালেদা জিয়ার শৈশব ও শিক্ষাজীবনের বড় অংশ কেটেছে দিনাজপুরে। পাঁচ বছর বয়সে বাবা তাকে দিনাজপুরের সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে ভর্তি করান। সেখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (গার্লস স্কুল) থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর তিনি দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৬৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া ইস্কান্দার মজুমদার ব্যবসার উন্নতির আশায় দিনাজপুরে চলে আসেন। তার মা তৈয়বা মজুমদার ছিলেন একজন সমাজকর্মী। দিনাজপুরের বাড়িতে তিনি দুস্থ নারীদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করতেন। এই পরিবার ‘টি-ফ্যামিলি’ নামেও পরিচিত ছিল।
১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট দিনাজপুরের মুদিপাড়ায় সেনাবাহিনীর তরুণ ক্যাপ্টেন Ziaur Rahman-এর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর তারা দিনাজপুরে বসবাস করেন। পরবর্তীতে স্বামীর কর্মস্থলের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন তিনি।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার সময় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন গৃহবধূ। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তার ছিল না। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রেক্ষাপটে নেতাদের অনুরোধে তিনি ১৯৮২ সালে বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার নেতৃত্বগুণে তিনি ১৯৮৩ সালে ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।
১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতে বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে তার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়।
এর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেন।
দিনাজপুর গার্লস স্কুলের এক শিক্ষার্থী থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানো বেগম খালেদা জিয়ার এই পথচলা আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনুপ্রেরণার নাম।