আরএনবি ডেস্কঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দাখিল করা হলফনামায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজের সম্পদ, আয় ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তারেক রহমানের নিজের নামে কোনো বাড়ি বা গাড়ি নেই, তিনি দ্বৈত নাগরিক নন এবং তার একমাত্র পেশা রাজনীতি। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের এন-ই-ডি-৩/বি নম্বর বাসা। তার বয়স ৫৭ বছরের বেশি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক পাস। হলফনামায় নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং কখনো দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি। একই সঙ্গে বিদেশে তার কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, তারেক রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। তার নামে রয়েছে ২ দশমিক ০১ একর কৃষিজমি, ১ দশমিক ৪ শতাংশ অকৃষিজমি এবং ২ দশমিক ৯ শতাংশ আবাসিক জমি। তবে তার নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা বাণিজ্যিক স্থাপনা নেই। আর্থিক হিসাবে দেখা গেছে, ব্যাংকে জমা ও নগদ মিলিয়ে তার রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা। এছাড়া তার নামে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকার এফডিআর ও অন্যান্য আমানত রয়েছে। শেয়ার ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ খাতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারসহ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে, যার মোট মূল্য কয়েক লাখ টাকা। গহনা ও আসবাবপত্রের মূল্য তুলনামূলকভাবে কম। হলফনামায় তার স্ত্রী চিকিৎসক জুবাইদা রহমানের সম্পদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ টাকার বেশি এবং তার নামে রয়েছে এক কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। যৌথ মালিকানায় তাদের রয়েছে জমি এবং ৮০০ বর্গফুটের একটি দোতলা ভবন। মামলাসংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন নেই। যদিও অতীতে তার বিরুদ্ধে মোট ৮৪টি মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০০৭ সালের পর বিভিন্ন সময়ে এসব মামলার কোনোটি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন, কোনোটি প্রত্যাহার, খারিজ বা অব্যাহতি পেয়েছে। আয়কর বিবরণীতে দেখা যায়, তারেক রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা এবং তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা। নিজের, স্ত্রীর বা নির্ভরশীল কারও নামে কোনো ঋণ, সরকারি পাওনা বা আর্থিক দায় নেই বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হলফনামা কেবল একটি নির্বাচনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক দলিল নয়; বরং তার আর্থিক স্বচ্ছতা, আইনি অবস্থান এবং সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের বার্তা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।