ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা ‘বিশেষ অনুদান’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ব্যয় নির্বাহে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে আরও এক কোটি টাকা প্রদান করা হচ্ছে।
বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের বিষয়ে দুটি পৃথক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার জন্য এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। পুরো অর্থ ব্যয় নাও হতে পারে। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে আলাদাভাবে আরও এক কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা পরিবারের জীবন নির্বাহে ব্যয় করা হবে।
এর আগে ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপর আবার পরিবারকে ফ্ল্যাট কেনা ও জীবনযাপনের জন্য মোট দুই কোটি টাকা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করে লাভ নেই।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এক কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি নিশ্চিত করে বলেন, অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর লালমাটিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত ‘দোয়েল টাওয়ার’ আবাসিক ভবনে ১ হাজার ২১৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফ্ল্যাটটি ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তান ব্যবহার করবেন।
সূত্র আরও জানায়, শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট কেনার অনুদান দিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রী ও সন্তানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার শর্তে অর্থ বিভাগ অনুদান অনুমোদন করে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, রাষ্ট্র তার স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব নেবে। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এক দিনের শোক পালন করা হয়। পাশাপাশি গত ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার তার ভাই ওমর বিন হাদিকে তিন বছরের চুক্তিতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়।
এদিকে, বাণিজ্য উপদেষ্টার ‘পদ্মা সেতুর কারণে চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে’—এমন বক্তব্য সম্পর্কে অর্থ উপদেষ্টার মতামত জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।