শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ব্রাজিলকে জটিল পরিস্থিতির মুখে ফেলতে পারে স্কটল্যান্ড-মরক্কো ম্যাচ পদ্মা সেতুর মতোই এগোচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি তিস্তা ব্যারাজ ও নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শনে আজ লালমনিরহাটে ৩ মন্ত্রী আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন ২০০-এর বেশি নেতাকর্মী ক্লাসে দুই শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়ে মাসে ব্যয় ৩ লাখ টাকা রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে ‘একজন মেয়ে কীভাবে চলবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি’ : মারদিয়া মমতাজ রংপুরসহ ৫ বিভাগে চালু হচ্ছে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল পদ্মা সেতুর পথেই এগোচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দ্রুত একনেকে যাচ্ছে প্রকল্প : পানিসম্পদ মন্ত্রী তিস্তা ব্যারেজে তিন মন্ত্রীর পরিদর্শন, মহাপরিকল্পনা নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষি ঋণ মওকুফ ও পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৯ জন সংবাদটি দেখেছেন
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষি ঋণ মওকুফ ও পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ এবং পদ্মা নদীর ওপরে ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে  এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সমাবেশে তিনি বলেন, “রাজশাহী বললেই বোঝায় পদ্মা নদী। এখন দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে পদ্মাই বলেন, তিস্তাই বলেন, ব্রহ্মপুত্রই বলেন, যে নদীই বলেন, পানি আছে কোনো? কোনো পানি নাই, পদ্মা নদীর সাথে যে খালগুলো আছে সেখানেও পানি নাই। আমাদের নদীতে পানি দরকার। এই এলাকার খালগুলো আমরা খনন করতে চাই। ধানের শীষ ইনশাল্লাহ বিজয়ী হলে আমরা পদ্মা ব্যারেজ করতে চাই। ইনশাল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজে হাত দেবে।”

‘যেহেতু রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত, যদিও সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ কৃষি পেশার সাথে জড়িত, দেশের বৃহৎ একটি অংশ কৃষি পেশার সাথে জড়িত। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষভালো থাকবে, কৃষি যদি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয় তাহলে দেশের মানুষ সহজেই কৃষি উৎপাদিত পণ্য সামগ্রি সেগুলো তারা ক্রয় করতে পারবে। এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ১০ হাজার টাকা পর্যান্ত কৃষি ঋণ আছে ইনশাল্লাহ আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয় হয়ে সরকার গঠন করলে আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণসুদসহ মওকুফ করব ইনশাল্লাহ।

একই সঙ্গে কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে কীটনাশক ওষুধ, সার, বীজসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করা হবে বলে জানান তারেক রহমান।

উত্তরাঞ্চলে বন্ধ থাকা বরেন্দ্র প্রকল্প চালু, রাজশাহীর আইটি পার্ক সচল, রাজশাহী বিভাগে একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন, একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, আম সংরক্ষণে হিমাঘার নির্মাণ, এবং কৃষি সংক্রান্ত শিল্প স্থাপনে উৎসাহী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে বলেন তিনি।

একই সাথে তিনি আরও বলেন, ‘কেন এসব কাজ করছি? এই পরিকল্পনার কথাগুলো আপনাদেরকে এজন্য বললাম, এই কাজগুলোর কথা এই জন্য বললাম বিগত ১৬/১৭ বছর এই দেশের সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার যেমন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, এদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার যেমন কেড়ে নেয়া হয়েছিলো ঠিক দেশের মানুষের জন্য তারা (বিগত সরকার) কোনো কাজ করে নাই। আমরা দেখেছি, কিভাবে তারা মেগা মেগা প্রকল্প করেছে এবং এই মেগা প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ছিল মেগা দুর্নীতি। এলাকার মানুষের জন্য রাস্ত-ঘাট নির্মাণ, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, মা-বোনদের পাশে দাঁড়ানো, এলাকায় হাসপাতাল, এলাকায় স্কুল কলেজ ঠিক করা, হাসপাতাল ঠিক করা— এসব কোনো কাজ বিগত সরকারের সময়ে হয়নি। কাজেই ২৪ সালের ৫ আগস্ট যে পরিবর্তন হয়েছে এর মাধ্যমে যেন জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। সেজন্য ১২ তারিখে নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমাবেশে তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাপাই নবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান। প্রার্থীরা হলেন, শাহজাহান মিয়া,আমিনুল হক, হারুনুর রশীদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরীফ উদ্দিন, মিজানুর রহমান মিনু,শফিকুল ইসলাম মিলন, ডিএম জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, আবু সাঈদ চাঁন, ফারজানা শারিমিন পুতুল, রুহুল কুদ্দন তালুকদার দুলুম, আনোয়ার হোসেন আনু, আব্দুল আজিজ উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আগামী দিন আমরা দেশকে কোন দিকে পরিচালিত করব। দেশকে আমরা গণতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করব নাকি দেশ অন্য কোনো দিকে চলে যাবে.. এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণতন্ত্রের দিকে যদি আমরা দেশকে ধাবিত করি, গণতন্ত্রের পথে যদি দেশকে আমরা পরিচালিত করি তাহলে আজকে আমরা যেসব পরিকল্পনার কথা বললাম, আপনাদের যে দাবিগুলোর কথা তুলে ধরলাম, মানুষের উপকার হয় সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে না পারি তাহলে মেগা প্রজেক্ট হবে , জনগণের কোনো প্রজেক্ট হবে না। জনগণের প্রজেক্ট যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে অবশ্যই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করতে হবে, গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে হবে। তাহলেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। আসুন আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে,ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।

তারেক বলেন, অবস্থার পরিবর্তনের অর্থ যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, গণতন্ত্রের ঝান্ডাকে উপরে তুলে ধরা। কোনোভাবে যেন জনগণের ঝান্ডা নেমে যেতে না পারে  এ ব্যাপারে সকলকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

জেলা সভাপতি মামুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিটনের সঞ্চালনায়সমাবেশে বিএনপির নেতা শাহীন  শওকত,দেবাশীষ রায় মধু, সাইফুল ইসলাম মার্শাল,বিশ্বনাথ সরকারসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

মঞ্চে তারেক রহমানের সাথে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও উপস্খিত ছিলেন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com