রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশজুড়ে ভোটের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তির ‘লাল পাসপোর্ট’ (কূটনৈতিক পাসপোর্ট) সমর্পণ করে সাধারণ বা সবুজ পাসপোর্ট গ্রহণের ঘটনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত পাঁচজন উপদেষ্টা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন উপদেষ্টার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, যেসব উপদেষ্টা লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সবুজ পাসপোর্ট নিয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন— আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, আদিলুর রহমান খান, খোদা বকশ চৌধুরী, আলী ইমাম মজুমদার, এছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিরা কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। এই পাসপোর্টে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ (জিও) প্রয়োজন হয়। অপরদিকে, সাধারণ বা সবুজ পাসপোর্টধারীরা সরকারি অনুমতি ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ করতে পারেন।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সম্ভাব্য প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতা এড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কারণ স্বীকার করেননি।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ এস এম আব্দুল হালিম বলেন, “লাল পাসপোর্ট সমর্পণের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নিয়মের মধ্যে রয়েছে। তবে তা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী হওয়া উচিত।”
প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জাহিদ রহমান বলেন, “দায়িত্ব পালনকালে পাসপোর্ট পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসনিক প্রটোকলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা জরুরি।”
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী ঘটনাটিকে “নজিরবিহীন” আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি জনআস্থার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
ভূমি ও খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমার সাধারণ পাসপোর্ট ছিল। প্রয়োজনের কারণে কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিতে হয়। নাগরিক হিসেবে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়া আমার আইনি অধিকার।”
তিনি দেশত্যাগের গুঞ্জন নাকচ করে বলেন, “বাংলাদেশ ছাড়া আমার থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনুমতি ছাড়া কোনো উপদেষ্টা সবুজ পাসপোর্ট পাননি। বিষয়টি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী হয়েছে।
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে উচ্চপদস্থ সরকারি ব্যক্তিদের পাসপোর্ট পরিবর্তনের ঘটনা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা এটিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে দাবি করছেন, তবুও সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।