ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ (শনিবার) প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি শহীদদের সম্মানে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শহীদ মিনারের মূল বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব নাজির মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক ও নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও শহীদদের ত্যাগ স্মরণ করেন।
দোয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও বিপ্লবের চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তার মেয়ে জাইমা রহমান।
এরপর ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জাতীয় পরিষদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিবসহ অন্যান্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ দিবস বা অমর একুশে হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢামেক এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক ছাত্র ও নাগরিক শহীদ হন, যাদের ত্যাগ ভাষার অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তি গড়ে তোলে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো বিশ্বের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে এই দিনকে International Mother Language Day হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এ উপলক্ষে সারাদেশে সকাল থেকে শহীদ মিনার বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত, প্রভাতফেরি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, যাতে শিক্ষার্থী, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এ বছরের শহীদ দিবসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্ধিন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রধানমন্ত্রীও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা ও দোয়া করেন। গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সরকারি নেতারা একযোগে ভাষা শহীদদের স্মরণে ফুলের মালা অর্পণ করেন এবং শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেন।