বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন

ত্রয়োদশ সংসদ কেন ব্যতিক্রম?

  • সবশেষ আপডেট : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ১৭৩ জন সংবাদটি দেখেছেন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক প্রেক্ষাপটে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় গঠিত সংসদকে বিভিন্ন কারণে ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংসদ গবেষকরা।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাবেই মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হচ্ছে সংসদের কার্যক্রম।

এবারের সংসদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সদস্যদের বড় অংশই নতুন। নির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২২৭ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করছেন, যা মোট সদস্যের প্রায় ৭৬ শতাংশ।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এত বেশি নতুন সদস্য থাকায় সংসদের কার্যপ্রণালী, বিধিবিধান এবং আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়া আয়ত্ত করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এবারের সংসদের আরেকটি ব্যতিক্রমী দিক হলো প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন, আর ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ফলে এই শূন্যতায় রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো ব্যক্তি বা নবনির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে কাউকে সাময়িকভাবে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

সংসদ গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি বিরল।

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন।

এরপর সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই ভাষণে নতুন সরকারের পরিকল্পনা ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

সংসদ বিষয়ক গবেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্ব, বিপুল সংখ্যক নতুন সদস্য এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংসদ বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ সদস্যরা যদি দ্রুত সংসদীয় বিধি-বিধান আয়ত্ত করতে পারেন, তাহলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com