জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামী–র মধ্যে রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে আপত্তি ও উদ্বেগ জানিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা।
শনিবার এই বিষয়ে লিখিত চিঠি দিয়ে তারা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম–এর কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন চিঠির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে নেতারা বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তাদের ভাষায়, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের বিভাজনমূলক রাজনীতি, গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটাজ, এনসিপির ওপর অপকর্মের দায় চাপানোর চেষ্টা, ছাত্রসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নারী নেত্রীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা—সব মিলিয়ে দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠেছে।”
চিঠিতে জামায়াতের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন নেতারা। তারা উল্লেখ করেন,
“১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময়কার অপরাধ বিষয়ে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।”
চিঠিতে বলা হয়, জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং দলটির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নেতারা আরও স্মরণ করিয়ে দেন, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একাধিকবার ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ১২৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণাও করা হয়েছে।
এ অবস্থায় অল্প কিছু আসনের জন্য জোটে যাওয়া “জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল” বলেও মন্তব্য করেন তারা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, “জোটের সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পর দলের সমর্থক, কর্মী ও সংগঠকদের একটি বড় অংশ সমর্থন প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন। মধ্যপন্থী ও নতুন রাজনীতি প্রত্যাশী জনগোষ্ঠী যদি সরে যায়, তাহলে এনসিপি তার মূল সমর্থকভিত্তি হারাবে।”
নেতারা স্পষ্টভাবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, “নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতেই কৌশল নির্ধারণ হওয়া উচিত; কৌশলগত কারণে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দেওয়া যাবে না।”
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন এবং সংগঠক **রফিকুল ইসলাম আইনী**সহ আরও অনেকে।