ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার জিসান মিয়া প্রধান-কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে তাকে কুমিল্লা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এর ৩ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাইয়োব উদ্দিন শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মামুনুর রশীদ।
জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতিও ছিলেন।
আদালতে তোলার আগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে সুস্থ বলে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা জানান, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে জিসানের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জিসানের আইনজীবী নাহিদ পাটোয়ারী বলেন, আদালতেই প্রমাণ হবে তার মক্কেল অপহরণ বা গুমের শিকার হয়েছেন, নাকি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে জড়িত।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একজন ২৫ বছর বয়সী নারীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আরও তিনজনকে সহায়তার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী জানান, এ মামলার অপর তিন আসামি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। পরে ১৩ জুন রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।