কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে তিন দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন নারী, শিশু ও যুবকসহ ৯ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় মানবিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক সীমারেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে কয়েকজন নারী-পুরুষ ও শিশু অবস্থান করছেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা ভারতের দিক থেকে সীমান্তে এসে আটকা পড়েছেন।
আটকে থাকা সুমি আক্তার জানান, তার পাঁচ মাস বয়সী শিশু কন্যা এবং চার বছর বয়সী আরেক সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
সুমি আক্তার ও তার স্বামী বেলাল হোসেন দাবি করেন, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায়। জীবিকার সন্ধানে কয়েক মাস আগে তারা ভারতে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গয়টাপাড়া সীমান্তের একটি পয়েন্টে একই পরিবারের ছয়জন এবং অন্য একটি পয়েন্টে আরও তিন যুবক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মানবিক কারণে তারা খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী সরবরাহ করছেন। শিশুদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তারা।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ভোরে কয়েকজন ব্যক্তিকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসার ঘটনা ঘটে। এরপর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, মানবিক কারণে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. ইমাম হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব, সীমান্তে আসার পরিস্থিতি এবং তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো দুই দেশের কর্তৃপক্ষের আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।