বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়ার ম্যাচে।ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। ম্যাচের এক পর্যায়ে আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার আইসা মান্দির ওপর করা মেসির একটি বিপজ্জনক ফাউল ঘিরে এখন ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কেন রেফারির নজর এড়িয়ে গেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা?
ম্যাচের একটি বল দখলের লড়াইয়ে মেসি বেশ আনাড়িভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসেন মান্দিকে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বলের নাগাল না পেয়ে মেসির বুটের স্টাড সরাসরি আইসা মান্দির কাফ পেশির পেছনের অংশে আঘাত করে। ফাউলটি ছিল যথেষ্ট বিপজ্জনক। তাৎক্ষণিকভাবে আলজেরিয়াকে ফ্রি-কিক দেওয়া হলেও রেফারি মেসিকে কার্ড দেখানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-ও এই ঘটনায় কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। যদিও ফাউল করার পরপরই মেসি মান্দির কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন, কিন্তু তা বিতর্কের আগুন নেভাতে পারেনি।
ম্যাচ শেষে ইএসপিএন এফসির টকশোতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষক আলে মোরেনো এবং নেদুম ওনোহা। মোরেনো সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বড় তারকা খেলোয়াড়রা কি রেফারিদের কাছ থেকে সবসময়ই বিশেষ বা পক্ষপাতমূলক সুবিধা পান?’ বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি স্পষ্ট লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমালোচনার বন্যা। ক্ষুব্ধ সমর্থকরা প্রশ্ন তুলছেন, বিশ্বকাপের মতো আসরে এমন একটি ফাউল কার্ড ছাড়া কীভাবে পার হয়? একজন সমর্থক তো একে ‘পাগলামি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অনেকের ধারণা, বিশ্বকাপের শুরুতেই অতিরিক্ত কার্ড প্রদর্শনের ফলে বিতর্কের মুখে পড়া রেফারিরা হয়তো কিছুটা নরম হওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতেই তিনটি লাল কার্ডের নির্দেশনায় অনেক খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন, যা এড়াতে ফিফা হয়তো রেফারিদের নির্দেশ দিয়েছে একটু সহনশীল হতে। সেই সুযোগেই হয়তো বড় ধরণের কোনো শাস্তি থেকে বেঁচে গেছেন মেসি।
রেফারির এই সিদ্ধান্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য এসেছে আশীর্বাদ হিসেবে। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলে পরের ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কাটাতে হয়। নকআউট পর্বের আগে মেসিকে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে দেখতে চাইবে না আর্জেন্টিনা। ফলে মাঠের লড়াইয়ে মেসির এই ‘অদৃশ্য’ সুবিধাটি আর্জেন্টিনা দলকে টুর্নামেন্টের সামনের পথচলায় বাড়তি স্বস্তি দিচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে রেফারিদের এমন ‘নরম’ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকে কি না, নাকি ফিফা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে।