যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজার নিয়ে পূর্বাভাস কমিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ বিনিয়োগ ব্যাংক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে আসার সম্ভাবনা এবং তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায় বাজার বিশ্লেষকরা নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছেন।
চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের মূল্য পূর্বাভাস প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার থেকে কমিয়ে ৮০ ডলার নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের গড় মূল্য পূর্বাভাস ৮০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭৫ ডলারে নামিয়েছে।
ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি পূর্বের ধারণার চেয়ে দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। তারা এখন মনে করছে, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ তেল সরবরাহ প্রায় যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসবে।
অন্যদিকে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য পূর্বাভাস প্রতি ব্যারেল ১৫ ডলার কমিয়ে ৮০ ডলার নির্ধারণ করেছে। এছাড়া তৃতীয় প্রান্তিকের পূর্বাভাস ১০০ ডলার থেকে কমিয়ে ৯০ ডলারে নামিয়েছে।
ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের ধারণা, তেল উৎপাদন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া প্রত্যাশার তুলনায় আরও আগে শুরু হবে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মধ্যে হারানো উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক পুনরুদ্ধার হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৮০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে ও তেলের মূল্য নিয়ে তাদের পূর্বাভাস নিম্নমুখী করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হলে সরবরাহ ঝুঁকি কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ কমবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, যা তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।