ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। দলীয় সূত্র বলছে, প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার পর কিছু এলাকায় বিক্ষোভ, মাঠপর্যায়ের জরিপ এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করে ‘ধানের শীষের বিজয়’ নিশ্চিত করতে এ রদবদল করা হয়েছে। এরই মধ্যে অন্তত ১২ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঐক্যের স্বার্থে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও মিত্রদের জন্য এখন পর্যন্ত ১৫টি আসন ছেড়েছে দলটি।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তেও আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগের দিন পর্যন্ত কিছু আসনে আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মনোনয়ন রদবদল প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ঘোষিত তালিকা চূড়ান্ত ছিল না—এটা সম্ভাব্য তালিকা। কোনো এলাকায় প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করা হবে। বড় দল হিসেবে প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী আছে, দল যাকে বেশি যোগ্য মনে করবে তাকেই চূড়ান্ত করবে।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী—প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার পর কিছু আসনে অসন্তোষ/বিক্ষোভ দেখা দেয়, জরিপের ফল ও স্থানীয় বাস্তবতা পর্যালোচনা করা হয়, জোটগত বাস্তবতা ও সংশোধিত আরপিও (প্রতীক ইস্যু) বিবেচনায় রেখে কিছু ক্ষেত্রে দলভুক্ত করে ধানের শীষ দেওয়া হয়, কয়েকটি আসনে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতায় বিএনপি প্রার্থী দেবে না বা দলীয় প্রার্থী থাকলে তাকে বাদ দেওয়া হবে
প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকা কয়েকটি আসন—বগুড়া-২: নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, নড়াইল-২: এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (ধানের শীষ), যশোর-৫: জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস, পটুয়াখালী-৩: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-৪: গণঅধিকার সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান (বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ), ঢাকা-১২: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, কুমিল্লা-৭: এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ (বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ), ঢাকা-১৩: এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ (বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ)
এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে ৪ আসনে সমঝোতা হয়েছে—নীলফামারী-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২—যেখানে বিএনপি প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম-৪: আসলাম চৌধুরী চূড়ান্ত (আগে কাজী সালাউদ্দিন), চট্টগ্রাম-১০: সাঈদ আল নোমান চূড়ান্ত, চট্টগ্রাম-১১: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চূড়ান্ত, যশোর-১: নুরুজ্জামান লিটন চূড়ান্ত (আগে মফিকুল হাসান তৃপ্তি) যশোর-৬: আবুল হোসেন আজাদ চূড়ান্ত (আগে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ) যশোর-৫: বিএনপির প্রার্থী বাদ দিয়ে শরিককে আসন ছাড়ার কথা উল্লেখ
মুন্সীগঞ্জ-২: অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ চূড়ান্ত (আগে মিজানুর রহমান সিনহা), নারায়ণগঞ্জ-৫: আবুল কালাম চূড়ান্ত (আগে মো. মাসুদুজ্জামান মাসুদ) পিরোজপুর-১: অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন চূড়ান্ত (আগে মোস্তফা জামাল হায়দার—অসুস্থতার কারণ দেখানো হয়েছে) প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির কিছু নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে নির্বাচনী মাঠে নামার আগে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।