রাজধানীর কড়াইল বস্তিবাসীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, কড়াইল এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য ছোট ছোট ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে মাথা গোঁজার ঠাঁই পান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে কড়াইলবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান। বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের জন্যই বিএনপির রাজনীতি। তিনি দাবি করেন, অতীতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কড়াইল এলাকায় বসবাসকারীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট তিনি অবগত। সেই সমস্যা সমাধানে ধাপে ধাপে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, উঁচু বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে কড়াইলবাসীর জন্য পরিকল্পিত আবাসনের ব্যবস্থা করতে চান।
তিনি আরও জানান, কড়াইল এলাকায় বসবাসকারীদের নাম নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারকে ছোট আকারের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ফ্ল্যাট সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের নামেই হস্তান্তর করা হবে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন, যাতে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের একটি স্থায়ী আবাস নিশ্চিত হয়।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কড়াইল এলাকার শিশুদের লেখাপড়া, খেলাধুলা ও চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কড়াইল এলাকায় ক্লিনিক ও হাসপাতাল স্থাপনের কথাও জানান তিনি।
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সরকার আমলে নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে মা-বোনদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে সব কিছুই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, কড়াইল এলাকার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জানান, একসময় ক্যান্টনমেন্টে বসবাস করলেও স্বৈরাচারী শাসনামলে সেই বাসভবন ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে তিনি গুলশানে বসবাস করছেন এবং কড়াইল এলাকার আরও কাছাকাছি প্রতিবেশী হিসেবে থাকতে পারছেন বলে উল্লেখ করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কড়াইলবাসীর পাশে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
দোয়া মাহফিল শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইব্রাহিম বিন আলী। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।