নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা–দুর্গাপুর) আসনে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির দুই নেতাকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। গত বুধবার তাদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়।
শোকজ নোটিশ পাওয়া নেতারা হলেন—কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খারনই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক।
বিচারিক কমিটির নোটিশে উল্লেখ করা হয়, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী গোলাম রব্বানীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তরা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন সেতু নির্মাণের আশ্বাসসংবলিত লিফলেট বিলির মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাবিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
কমিটির মতে, এসব কর্মকাণ্ড সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১৮ (নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচার) এবং বিধি ১৫(ঘ) (ভোটারদের প্রভাবিত করতে বল প্রয়োগ) স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে। এ কারণে তাদের আগামী ২৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, তিনি আইন মেনে চলায় বিশ্বাসী। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, কার্ড বিতরণ বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি। সুষ্ঠু তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবায় নিয়োজিত। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডে তিনি যুক্ত নন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাজির হয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করবেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ খায়ের সমকালকে বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল এবং আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দলের কোনো নেতা ব্যক্তিগতভাবে ভুল করলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত। তবে নির্বাচনের মাঠে একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টাও থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ইউএনও ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীর মধ্যে কোনো ধরনের যোগসাজশ রয়েছে কি না—সে প্রশ্ন জনমনে দেখা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সবসময় নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই নীতিতেই কাজ করবেন।