শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সোনার দাম ভরিতে আরও কমলো ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক স্থগিত অবশেষে সেই ‘মাস্টারমাইন্ড’ ইস্যুটি খোলাসা করলেন সাবেক উপদেষ্টা ভয়াবহ ট্যাকলে গুরুতর চোট, স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন কানাডার ইসমাইল কোনে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদের অভিযোগ, তারাগঞ্জ মাদ্রাসায় নতুন বিতর্ক রৌমারী সীমান্তে ৯৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার একই পরিবারের ৪ সদস্য, শূন্যরেখায় এখনও ৫ জন পরিমনি কাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন দিনাজপুরে অটোরাইস মিল মালিকের পায়ের রগ কাটা মরদেহ, হত্যার অভিযোগ গোবিন্দগঞ্জে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত, পারিবারিক কলহে মর্মান্তিক ঘটনা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত অভিনেতা জোভান, ভক্তদের দিলেন সতর্কবার্তা

ট্রাম্পের নতুন শুল্কারোপের ঘোষণা: বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

  • সবশেষ আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৪ জন সংবাদটি দেখেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করার পর বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায় বাংলাদেশের জন্যও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষ করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কারণে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি নিয়েই এখন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—শুল্ক বাতিল হলে কি সেটি বহাল থাকবে, নাকি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘প্ল্যান-বি’ আবারও বাংলাদেশকে কঠিন অবস্থায় ফেলবে?

মার্কিন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায়ে বলেছেন—জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ট্রাম্প যে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) ব্যবহার করেছিলেন, সেটি শুল্ক আরোপের জন্য প্রযোজ্য নয় এবং অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের পর্যায়ে পড়ে।

এই রায়ের ফলে বাংলাদেশের ওপর পূর্বে আরোপিত ১৯% পাল্টা শুল্ক কার্যকর থাকছে না। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের Trade Act-এর 122 ধারা ব্যবহার করে বৈশ্বিকভাবে ১০% নতুন আমদানি শুল্ক ঘোষণা করেন। এতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারতসহ চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোকেও একই হারে শুল্ক দিতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও—আগের ১৯% নয়, নতুন করে ১০% শুল্কই প্রযোজ্য হবে

এটি স্বস্তির মনে হলেও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন—ধারা ১২২ অনুযায়ী, এই শুল্ক ১৫০ দিনের মধ্যে ৫০% পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব, যদি বাণিজ্য অংশীদার দেশের শ্রম, পরিবেশ বা ন্যায্য বাণিজ্যচর্চায় অনিয়ম পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত RMG অর্থাৎ তৈরি পোশাক। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার—প্রতি বছর ৮০০ কোটি ডলারের রপ্তানি।

ট্রাম্পের আগের সিদ্ধান্তে—

  • মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পণ্যে ৩৫% পাল্টা শুল্ক আরোপিত হয়েছিল
  • দরকষাকষির পর তা নেমে আসে ১৯%-এ
  • এর বিনিময়ে বাংলাদেশকে বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছে—
    • মার্কিন তুলা
    • সয়াবিন
    • অন্তত ৪টি বোয়িং বিমান

অর্থনীতিবিদরা এটিকে বলেছেন “অসম ও জবরদস্তিমূলক” চুক্তি।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই শুল্ক বাতিল হলেও—চুক্তির অন্য শর্ত বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন—“এই মুহূর্তে পুরনো চুক্তির আলোচনা পুনরায় খুলতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বাংলাদেশের উচিত অপেক্ষা করা এবং অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি জোরদার করা।”

তিনি আরও বলেন—

  • এখন ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের শ্রমবাজার, নারী শ্রমিক পরিবেশ, পরিবেশগত মান, কর্মপরিবেশ ইত্যাদি ১৫০ দিনের মধ্যে মূল্যায়ন করবে
  • ‘অনিয়ম’ পেলে শুল্ক ৫০% পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব
  • তবে ১৫০ দিনে এত দেশের তদন্ত করা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষেও কঠিন

BKMEA সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন—“যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে এটি মোটেই সমান সুযোগের ছিল না। ট্রাম্পের শুল্কনীতি খুবই অনিশ্চিত—আজ ১০%, কাল আবার কী হয় বলা যায় না।”

ব্যবসায়ীদের মতে, এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাজ হলো— শ্রম মান উন্নয়ন, গ্রীন কমপ্লায়েন্স, কারখানার কর্মপরিবেশ আন্তর্জাতিক মানে আনা, মার্কিন তদন্তে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেই প্রস্তুতি নেওয়া।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com