মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

এক সপ্তাহে বজ্রপাতে ৭১ জনের মৃত্যু

  • সবশেষ আপডেট : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ২০ জন সংবাদটি দেখেছেন

দেশে বজ্রপাত এখন আর মৌসুমি দুর্যোগ নয়, বরং নিয়মিত প্রাণঘাতী ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস ও প্রস্তুতি’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ব্র্যাক ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি, পূর্বাভাস ব্যবস্থা ও প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়।

কর্মশালায় জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার তুলনায় বজ্রপাতে মৃত্যুর হার এখন বেশি উদ্বেগজনক। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে বজ্রপাতে মোট ৩ হাজার ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বজ্রপাতে নিহতদের প্রায় ৭০ শতাংশই কৃষক। মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতই তাদের বড় ঝুঁকিতে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওরাঞ্চল বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তিন দিন আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অনেক মানুষ তা অনুসরণ করছেন না। ফলে প্রাণহানি কমানো যাচ্ছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে সেই তথ্য দ্রুত পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বজ্রধ্বনি শোনার সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত ঘরের ভেতর যেতে হবে এবং খোলা জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে।

আবহাওয়াবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, সচেতনতা বাড়াতে একটি সহজ বার্তা প্রচার করা হচ্ছে—“শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই”। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, শুধু পূর্বাভাস নয়, তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং কার্যকর সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য বিকল্প তথ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com