নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগানোর ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিন দিনেও মামলা না নেওয়ায় লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও করেছে এলাকাবাসী।
সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকা থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শতাধিক মানুষ লাশ নিয়ে সৈয়দপুর শহরে প্রবেশ করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন এবং শেরে বাংলা সড়ক অবরোধ করেন।
এতে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং থানা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এজাহার নথিভুক্ত করলেও বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ প্রত্যাহার না করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর অপসারণ দাবি করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন অবরোধ সরিয়ে নেয়।
জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায় আফাজ উদ্দিনের (৬২) বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেয়। এতে বাড়িতে থাকা তার বাবা আফাজ উদ্দিন আগুনে দগ্ধ হন।গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে একই দিন ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহতের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে গাছের ঝরা পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চলের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সময় চঞ্চল তার বড় ভাইকে মারধর করে এবং মোবাইল ফোন ভেঙে দেয়।
তিনি দাবি করেন, সেই ঘটনার জের ধরে গত ৩ জুন রাতে তারাগঞ্জ বাজারে তার ভাইকে আটকিয়ে মারধর করা হয়। পরে প্রতিশোধ নিতে চঞ্চল ও তার পরিবারের সদস্যরা তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশে নির্মাণাধীন ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে ভাই সেখানে না থাকায় বৃদ্ধ বাবা এই নৃশংসতার শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার বাবার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও তিন দিনেও মামলা নেওয়া হয়নি। উল্টো ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়েই আমরা লাশ নিয়ে থানায় এসেছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করেছে। তবে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে আসেননি। পরে একটি এজাহার জমা দেওয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ নিজেরাই এজাহার সংশোধন করে দিতে চাইলেও তারা রাজি হয়নি। সোমবার (৮ জুন) আসতে বললেও তারা লাশ ও লোকজন নিয়ে থানায় এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।