গাইবান্ধা সদর উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মোঃ নোবেল (২০)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার দারুস সালাম থানার মীরবাড়ী আদি জামে মসজিদ এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত নোবেল গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের রহিমের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা সদরের চকমামরোজপুর এলাকায় তার নানার বাড়িতে বসবাস করছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকায় সে গ্রামে তার বৃদ্ধ দাদা-দাদীর সাথে বসবাস করতো। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে নোবেলের ১২ বছর বয়সী বোনের সাথে খেলাধুলা করতে প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতো ভিকটিম।
গত ৮ জুন, ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ভিকটিম খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আসামি নোবেল তার সহযোগী তারেক (১৯)-এর সহায়তায় তাকে জোরপূর্বক খোরশেদ মন্ডলের একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে হত্যার হুমকি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর ভিকটিম অসুস্থ হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে ভিকটিম কোনোভাবে বাড়ি ফিরে এলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দাদী তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই নৃশংস ঘটনার পর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গত ১৬ জুন, ২০২৬ তারিখ গাইবান্ধা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা (মামলা নং-৩৭) দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র্যাব-১৩। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ৫ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় সিপিসি-৩ (র্যাব-১৩, গাইবান্ধা) এবং সিপিসি-১ (র্যাব-৪, মিরপুর-১, ঢাকা) এর একটি চৌকস দল ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি নোবেলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে এবং নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর অপরাধ দমনে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে বাহিনীটি। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতার এবং সমাজ থেকে এ ধরনের মারাত্মক অপরাধ দমনে র্যাবের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।