নতুন স্মার্টফোনের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশে ব্যবহৃত বা সেকেন্ড-হ্যান্ড ফোনের বাজারে আগ্রহ বাড়ছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় মোবাইল মার্কেটগুলোতে প্রতিদিনই অসংখ্য পুরোনো ফোন কেনাবেচা হচ্ছে। তবে সামান্য অসতর্কতায় ক্রেতারা নকল যন্ত্রাংশযুক্ত, চোরাই কিংবা লুকানো ত্রুটিযুক্ত ফোনের ফাঁদে পড়তে পারেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করলে ব্যবহৃত স্মার্টফোন কেনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
যে মডেলের ফোন কিনতে চান, তার বর্তমান বাজারমূল্য আগে জেনে নিন। বিভিন্ন বিক্রেতার মূল্য তুলনা করুন। বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামে ফোন বিক্রির প্রস্তাব এলে সতর্ক থাকুন। এমন ফোনে বড় ধরনের সমস্যা বা অন্য কোনো ঝুঁকি থাকতে পারে।
ফোনের আইএমইআই নম্বর (*#06# ডায়াল করে) দেখে সেটিংস, বক্স এবং সিম ট্রের নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। সম্ভব হলে মূল বক্স, ক্রয়রসিদ এবং ওয়ারেন্টি কার্ড যাচাই করুন। এতে ফোনের মালিকানা ও বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সহজ হয়।
ফোনের বডি, ডিসপ্লে, ব্যাক প্যানেল ও ক্যামেরা লেন্স ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। অতিরিক্ত আঁচড়, ডেন্ট, ফাটল বা খোলার চিহ্ন থাকলে বুঝতে হবে ফোনটি আগে মেরামত করা হয়ে থাকতে পারে।
ডিসপ্লেতে ডেড পিক্সেল, গ্রিন লাইন বা টাচ সমস্যা আছে কি না পরীক্ষা করুন। পাশাপাশি ক্যামেরা, স্পিকার, মাইক্রোফোন, ভাইব্রেশন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং সব বাটন ঠিকমতো কাজ করছে কি না নিশ্চিত হন।
আইফোন হলে ব্যাটারি হেলথ পরীক্ষা করুন। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অতিরিক্ত গরম হওয়া বা দ্রুত চার্জ শেষ হওয়ার প্রবণতা আছে কি না খেয়াল করুন। ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও চার্জিং সিস্টেমও পরীক্ষা করা জরুরি।
ডিসপ্লে, ব্যাটারি বা মাদারবোর্ড পরিবর্তন করা হয়েছে কি না বিক্রেতার কাছে জানতে চান। ফোনে পানি ঢোকার কোনো চিহ্ন আছে কি না তাও পরীক্ষা করুন। অতিরিক্ত মেরামত করা ফোন দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে নির্জন স্থানে লেনদেন না করাই ভালো। জনসমাগমপূর্ণ স্থানে দেখা করুন এবং সম্ভব হলে পরিচিত কাউকে সঙ্গে রাখুন। বিক্রেতার পরিচয়পত্রের তথ্য সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে কাজে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধাপে ধাপে সবকিছু যাচাই করা উচিত। কয়েক মিনিটের অতিরিক্ত সতর্কতা ভবিষ্যতের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে পারে।