গাইবান্ধা সদর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের হওয়া হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি মো. হাসানুর জামান সুমন (৪০)-কে ঠাকুরগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
র্যাব জানায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে র্যাব-১৩-এর সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্প এবং সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল ঠাকুরগাঁও জেলার ভুল্লী থানার কচুবাড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন বিকেলে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বড় মহানন্দপুর গ্রামে ভোগদখলীয় জমিতে রোপণ করা গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হাসানুর জামান সুমনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সোহরাব সরকার, তার ভাই আলামিন এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার একপর্যায়ে সোহরাব সরকারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে আলামিন ও স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেনও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় মামলার বাদী মোছা. সুমাকে মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং তার গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় গত ৭ জুন মোছা. সুমা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫ থেকে ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই প্রধান আসামিসহ অন্যরা আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি হাসানুর জামান সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।