আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিমার্জন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতিহাস ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর ভূমিকা নিয়ে আলাদা অধ্যায়। পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি, মানসিক স্বাস্থ্য, এআই ও সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়ও যুক্ত হচ্ছে নতুন পাঠ্যক্রমে।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইতিহাস ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ৭ নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নব্বইয়ের গণআন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদান নিয়েও নতুন অধ্যায় যোগ হবে।
গত ৪ থেকে ৭ মে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত চার দিনের কর্মশালায় পাঠ্যবই পরিমার্জনের এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে দেশের ২৫৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ আমলে পাঠ্যবইয়ে উপেক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিষয় এবার গুরুত্ব পাচ্ছে।
চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতে খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা বই যুক্ত করা হচ্ছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, কারাতে ও দাবার মতো বিষয় থাকবে। এ বিষয়ের মূল্যায়ন হবে ব্যবহারিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্ব দিয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য’ নামে নতুন বই যোগ করা হচ্ছে। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ জয়’ এবং ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ নামে দুটি নতুন বই। এর মধ্যে ‘লার্নিং উইথ জয়’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে।
বর্তমান আইসিটি বইগুলোকে সময়োপযোগী করতে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, হার্ডওয়্যার ও সাইবার নিরাপত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এ ছাড়া বাংলা, বিজ্ঞান, পৌরনীতি ও নাগরিকতাসহ বিভিন্ন বইয়ে ভাষাগত, তথ্যগত ও বানান সংশোধনের পাশাপাশি প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র ও অলংকরণেও নান্দনিক পরিবর্তন আনা হবে। শিক্ষার্থীদের বয়স উপযোগী ছবি, প্রবাদ ও বাণী ব্যবহারের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, “পাঠ্যবইয়ে যাতে তথ্যগত বা ভাষাগত কোনো ভুল না থাকে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) এ কে এম মাসুদুল হক জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার মাথায় রেখেই বইগুলো পরিমার্জন করা হচ্ছে। জুনের মধ্যেই এ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।