ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের চার দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের সমঝোতা কার্যকর হলে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখা গেলে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত।
রোববার (১৪ জুন) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে চার দেশের নেতারা বলেন, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে শাহবাজ শরিফ জানান, তার দেশের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকটি আগামী শুক্রবার জেনেভা-এ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হতে পারে। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মতে, সমঝোতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে লেবাননও রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয় জানিয়েছে, লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব অঞ্চলে সামরিক অভিযান বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির সময় আরও বিস্তৃত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে ইসরায়েল এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এর আগে দেশটি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সরাসরি অংশ তারা নয়।
এদিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আগামী শুক্রবার থেকে পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এসব ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।