‘আমরা শিগগিরই একটি নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা করব।’—মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্বাচন যেন সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়—এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্গঠনে সশস্ত্র বাহিনী বরাবরের মতোই মানুষের পাশে আছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর চলমান সংস্কার ও পুনর্গঠনে তিন বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সংযোজন ও বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। যুবসমাজকে জাতীয় কাজে সম্পৃক্ত করতে বিএনসির কার্যক্রম বহুগুণ বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণ মুক্তিযুদ্ধে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। তাঁদের ত্যাগ ও সাহসিকতা স্বাধীনতার ভিত্তি তৈরি করেছে।
গত ৩৭ বছরে বিশ্বের ৪৩টি দেশে ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান স্মরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা। নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণে বাংলাদেশ এখন শীর্ষ অবস্থানে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সুখ-শান্তি কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন— ‘দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আমরা যেন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে পারি।’