আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বুধবার রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আয়োজিত নির্বাচনী মহড়া ও মক এক্সারসাইজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
সিইসি বলেন, বিজিবির করা মহড়া নির্বাচনকালীন বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ভোটের সময় যে ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পড়তে পারে, সেসব বিষয় মাথায় রেখে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান—“বিজিবি সীমান্তে দায়িত্ব পালন করলেও নির্বাচন ভিন্নধর্মী দায়িত্ব। এ কারণে বিশেষ প্রশিক্ষণ তাদের দক্ষতা বাড়াবে। পুলিশ, আনসার ও বিডিবির সদস্যরাও একইভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও স্বাভাবিক হবে। আগামী ৩০ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে বাহিনী মোতায়েনের কৌশল চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সেনাবাহিনী প্লাটুনভিত্তিক দায়িত্ব পালন করে, তাই কেন্দ্রভিত্তিক তাদের মোতায়েন নয়, বরং ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োজিত করা হবে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলো লাল, হলুদ ও সবুজ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের ঝুঁকি বিবেচনায় বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
কিছু রাজনৈতিক দলের নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণার বিষয়ে সিইসি বলেন— “যারা নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিক, ভোটার ও দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়েই আমরা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিহত করবো।”
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১,২১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য নির্বাচন দায়িত্বে থাকবে। সীমান্তবর্তী ১১৫ উপজেলার মধ্যে ৬০টিতে তারা এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। শুধু সন্দীপ, হাতিয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে না।
মক এক্সারসাইজে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।