রাজশাহী মহানগর পুলিশের সদ্য সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে অশ্লীল ও আপত্তিকর ভিডিও পাঠানোর অভিযোগে পদ থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি পদে বদলি হয়েছেন। তবে তাকে এখনো কোনো বিভাগে পদায়ন করা হয়নি।
অভিযোগকারী কর্মকর্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের ৩৫তম ব্যাচের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি)। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আবু সুফিয়ান একতরফাভাবে তাকে আপত্তিকর ভিডিও ও বার্তা পাঠাতেন। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় তিনি বিভাগীয় বিধি মেনে লিখিত অভিযোগ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে গত ২৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগনামা জারি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়—
একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে একজন জুনিয়র নারী সহকর্মীকে অশ্লীল ভিডিও পাঠানো সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ ও চরম অপেশাদার আচরণ।
তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। চাইলে তিনি ব্যক্তিগত শুনানির আবেদনও করতে পারবেন।
ডিআইজি আবু সুফিয়ান দাবি করেন, তিনি ভিডিওটি ওই নারী কর্মকর্তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পেয়েছিলেন এবং বিষয়টি জানতে চেয়ে রি-সেন্ড করেছিলেন। পরে নাকি বুঝতে পারেন, সেটি ফেক আইডি থেকে পাঠানো হয়েছিল। তার ভাষ্য—এমন ঘটনা মাত্র একবারই ঘটেছিল।
অপরদিকে নারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার সঙ্গে আবু সুফিয়ানের ব্যক্তিগত কোনো যোগাযোগ ছিল না। ট্যুরিস্ট পুলিশে যোগ দেওয়ার পর দেখা হলে সালাম বিনিময় ছাড়া আর কিছু হয়নি। রাজশাহীতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর বার্তা পেতে শুরু করেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ আবু সুফিয়ানের ফোনে মুছে ফেলা আপত্তিকর ভিডিওর অস্তিত্ব পাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শিগগিরই নেওয়া হতে পারে।