জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি ট্রাইব্যুনাল-২–এ উপস্থিত হন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে আজ তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন—অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলার ৩০ আসামির মধ্যে এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ—এই ছয়জন বর্তমানে কারাগারে আছেন। সকালেই তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
২৭ নভেম্বর ২১তম সাক্ষীর জেরা শেষে আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এর আগে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ কর্মকর্তা ও আন্দোলনকারীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
১১–১৮ নভেম্বর পর্যন্ত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা জবানবন্দিতে ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মামলার আরও কয়েকজন সাক্ষী জানান, ১৬ জুলাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হলে পথ থেকে তার লাশ পুলিশ নিয়ে যায়—এমন অভিযোগও সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে আসে।
এ মামলার সাক্ষী তালিকায় মোট ৬২ জন রয়েছেন। গত ২৮ আগস্ট আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একই দিনে সাংবাদিক মঈনুল হকও সাক্ষ্য দেন।
আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় ২৭ আগস্ট। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
তবে এ মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসিসহ মোট ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করছেন।