মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তৃতার শুরুতে তারেক রহমান বলেন, “রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি। ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ অর্জন করেছি। ১৯৭৫ সালে সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশ রক্ষা করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে এ দেশের মানুষ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি—ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, তারা সবাই নবী করিম (সা.)–এর ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”
দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। কিংবদন্তি নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বক্তব্যের অনুকরণে তিনি বলেন,
“আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।” তিনি জানান, এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের উন্নয়ন, অধিকার ও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। তা বাস্তবায়নে গণতন্ত্রকামী সব মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “আজ আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, তাহলে লক্ষ-কোটি মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।” তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন—একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ তাদের কথা বলার অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায় এবং যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে তারেক রহমান গণসংবর্ধনা মঞ্চে ওঠেন। বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করে তিনি অনুষ্ঠানে পৌঁছান। মঞ্চে ওঠার পর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।