রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে অসুস্থ হয়ে গত তিন দিনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। এ ছাড়া আরও দু’জন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল আটটার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাদক মামলার হাজতি জয়নাল আবেদীন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রোববার গভীর রাতে। বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করার পর একদল ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই রাতেই বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের সোহেল মিয়া এবং রংপুর সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাত আলী নিজ নিজ বাড়িতে মারা যান। একই ধরনের আরেক ঘটনায় মানিক চন্দ্র নামের এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আরও কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তি ভয়ে বা গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী জয়নুল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, শ্যামপুরের বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন দীর্ঘদিন ধরে চোলাই মদ ও স্পিরিট বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা রোববার রাতে তার কাছ থেকেই স্পিরিট সংগ্রহ করে পান করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জাহিদ সরকার এবং সদর কোতয়ালি থানার ওসি আব্দুল গফুর জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রেকটিফায়েড স্পিরিটসহ বিভিন্ন মাদকের অবৈধ বেচাকেনা চলছিল। বিষয়টি আগে থেকেই প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তিনি মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান।