যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা স্থগিত করেছে রাশিয়া। এই বিরতি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ও প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ জানান, ট্রাম্পের অনুরোধ বিবেচনায় নিয়েই সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন,
“আমরা আশা করছি, এই বিরতি আলোচনার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে।”
তবে পেসকভ এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। ইউক্রেনের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, বা ইউক্রেনও পাল্টা হামলা স্থগিত রাখবে কি না—সেসব প্রশ্নের উত্তরও তিনি এড়িয়ে যান।
একদিন আগে, ২৯ জানুয়ারি, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইউক্রেনে আগামী এক সপ্তাহ রাশিয়া কোনো হামলা করবে না। মারাত্মক শীত পড়েছে, তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছি। তিনি রাজি হয়েছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে পুতিনের আলোচনা ছিল “খুবই চমৎকার”।
ইউক্রেনে বর্তমানে তীব্র শীত বিরাজ করছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা গড়ে মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রবিবার থেকে আরও নেমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রি হতে পারে।
এই অবস্থায় শক্তি খাতের ওপর হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। গত ২৬ জানুয়ারি রাতে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎবিহীন হয়ে যায় এক হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ প্রায় ১২ লাখ বাড়িঘর।
ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল জানান, বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগে সরকার কাজ করছে, তবে এখনও ১০ লাখের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা বাড়তেই থাকে ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে কিয়েভের তদবিরের পর। এরপর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত এই দীর্ঘ সংঘাত নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে কি না—সেটি এখনো অনিশ্চিত।