রংপুরের পীরগাছায় পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা বলায় ইদ্রিস আলী নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের জগজীবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার দুপুরে মামলার প্রধান আসামি যুবদল নেতা মজনু মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পীরগাছা থানার পুলিশ জানায়, স্থানীয় বিএনপি–যুবদলের কয়েকজন কর্মী বৃহস্পতিবার সকালে ইদ্রিস আলীর বাড়িতে গিয়ে তিনি কাকে ভোট দেবেন জানতে চান। ইদ্রিস আলী স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেনের ‘শাপলা কলি’ প্রতীককে ভোট দেবেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদল নেতা মজনু মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা ইদ্রিস আলীর ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় তাঁকে সপরিবারে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ইদ্রিস আলীকে উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তিনি চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মজনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি শুধু বলেছি কাকে ভোট দেব—এটাই কি আমার অপরাধ? প্রকাশ্য দিবালোকে আমাকে মারধর করা হয়েছে এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বরদাশত করা হবে না।’
স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন হামলার ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি প্রয়োজন।