বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নাগরিককে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ড. মাহদী আমিন বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত নাগরিক সেবা গড়ে তোলা হবে। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ই-গভর্ন্যান্স, আধুনিক ডেটা ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল অবকাঠামোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের পরিকল্পনায় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান,প্রযুক্তিখাত শক্তিশালী করা,আইসিটি–নির্ভর জনসেবা বিস্তার,এবং তথ্য–প্রযুক্তিকে দেশের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রূপ দেওয়ার নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।দলের আইসিটি সেক্রেটারি এ কে মহিদুজ্জামান ও তার টিম এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে— কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু হবে,১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে,নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হবে,এবং দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করে এআই–ভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে।
শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ই-লার্নিং সিস্টেমসহ ‘কানেক্টেড স্কুল’ গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
ড. মাহদী আমিন আরও বলেন, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও বিপিও শিল্পকে শক্তিশালী করে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ও ‘অ্যাসেম্বলড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড তৈরি করা হবে। এই খাতে সরাসরি দুই লাখ এবং পরোক্ষভাবে আট লাখসহ মোট ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য রয়েছে বিএনপির।
ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের দাবি পেপালসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবা চালুর প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় ই–ওয়ালেট চালুর মাধ্যমে কর, বিল ও ফি ডিজিটালভাবে পরিশোধ আরও সহজ হবে বলে জানান।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ধাপে ধাপে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি–বেসরকারি অফিস,হাসপাতাল,রেলস্টেশন, বিমানবন্দর,গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার,জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট চালু করা হবে।
তিনি বলেন, “ফ্রি ইন্টারনেট উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা বিস্তার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে।”
দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং টিয়ার–থ্রি ও টিয়ার–ফোর মানের ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রথম এআই–চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।